অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › জাতীয় › গ্যাস সরবরাহে স্বস্তির খবর, বাস্তবে কমেনি ভোগান্তি

গ্যাস সরবরাহে স্বস্তির খবর, বাস্তবে কমেনি ভোগান্তি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ 49
গ্যাস সরবরাহে স্বস্তির খবর, বাস্তবে কমেনি ভোগান্তি

মোঃ নাজমুল হাসান বাবু

দেশে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্বল্পচাপের কারণে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও পরিবহন খাতের গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।

সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। পরে টার্মিনালের একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিকভাবে চালু হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ফের যোগ হয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি


চাহিদার তুলনায় বড় ঘাটতি


বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহের চেয়ে অনেক বেশি। সংসদে দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।


এই কাঠামোগত ঘাটতির মধ্যেই এলএনজি টার্মিনালের সাময়িক বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে সরবরাহ কিছুটা ফিরলেও আগের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না।


বাসাবাড়িতে রান্নার ভোগান্তি


গ্যাস সংকটের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


কম চাপের কারণে অনেক পরিবারকে বৈদ্যুতিক চুলা, এলপিজি কিংবা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও রান্না শেষ করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।


বিশেষ করে ঢাকার কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ভৌগোলিক অবস্থান ও নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে সংকটের প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন


গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কোথাও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকেরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না বলে প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে।


এর ফলে চালকদের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেও বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে। সিএনজি স্টেশন মালিকদের পক্ষ থেকেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত


গ্যাসের স্বল্পচাপ শুধু বাসাবাড়ি বা পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।


গ্যাসের চাপ কমে গেলে কারখানার বয়লার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়া, কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতির সময় শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—দুই খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য এসেছে।


বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ


বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়ে।


সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট কমে যায় এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও।


বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পদক্ষেপও জোরদার করেছে। গ্যাসের ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় এই সংকট জ্বালানি খাতের বাইরেও প্রভাব ফেলছে।


সংকটের পেছনে শুধু এলএনজি টার্মিনাল নয়


এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি সাম্প্রতিক সংকটকে তীব্র করেছে ঠিকই, কিন্তু দেশের গ্যাস সংকটের মূল সমস্যা আরও গভীরে।


দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে শিল্প, বিদ্যুৎ, আবাসিক ও পরিবহন খাতে চাহিদা বাড়ছে। ফলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা এই আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে এনেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।


সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি কবে?


মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের একটি ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে মেরামতকাজ অব্যাহত রয়েছে


ফলে আপাতত কিছুটা উন্নতি হলেও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে কবে?


সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে শুধু সাময়িক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, দেশীয় অনুসন্ধান জোরদার এবং আমদানি ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানো প্রয়োজন।


শেষ কথা


গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবর স্বস্তির হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই স্বস্তি এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি ভোক্তার ঘরে। রান্নাঘর থেকে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র—দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন স্তরে গ্যাস সংকটের প্রভাব স্পষ্ট।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস