অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › জাতীয় › দুদকে নতুন নেতৃত্ব: চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

দুদকে নতুন নেতৃত্ব: চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ 89
দুদকে নতুন নেতৃত্ব: চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

ঢাকা প্রতিনিধি ||


দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে নতুন কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।


পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে তিনজনকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই আইনের বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তাঁদের মেয়াদ পাঁচ বছর।


দুদক আইন অনুযায়ী কমিশন তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হয়। তাঁদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস পর প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন ফিরে পেল।


কারা থাকছেন নতুন কমিশনে


নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি এর আগে হাইকোর্ট বিভাগেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। বিচার বিভাগে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর নেতৃত্বে দুদকের কার্যক্রমে আইনগত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে


কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন সাবেক সচিব। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। তিনি ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


সার্চ কমিটির সুপারিশের পর নিয়োগ


নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় একটি বাছাই বা সার্চ কমিটি কাজ করে। কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত ও যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নাম সুপারিশ করে। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে নতুন কমিশনের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।


প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সামনে বড় চ্যালেঞ্জ


দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ, অনুসন্ধান ও তদন্তের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক-আইনগত প্রতিষ্ঠান। ফলে নতুন কমিশনের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।


দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করা, বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান এবং দুর্নীতির মামলার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো নতুন নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


একই সঙ্গে দুদকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানোও নতুন কমিশনের অন্যতম বড় দায়িত্ব। অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে।


নতুন কমিশন নিয়ে প্রত্যাশা


দীর্ঘ সময় পর পূর্ণাঙ্গ কমিশন পাওয়ায় দুদকের নিয়মিত কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও রাজস্ব খাতের অভিজ্ঞ তিন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত নতুন কমিশন দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে কতটা কার্যকর ও দৃশ্যমান করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং আইনের প্রয়োগে কোনো ধরনের বৈষম্য না রাখার ওপর নতুন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করবে।


নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে দুদক কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।


-নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা