অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › জাতীয় › প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:১৮ এএম, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ 71
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

ঢাকা ||

জাতীয় সংসদ ভবনে ধর্মীয় প্রতীক ও রাষ্ট্রীয় নীতির নতুন কিছু সংযোজন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংসদ ভবনের প্রবেশদ্বারগুলোতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’—এই মূলনীতিও খোদাই করে সংযোজন করা হয়েছে বলে পোস্টটিতে দাবি করা হয়।


বিএনপির ওই পোস্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশন শুরুর আগে এসব সংযোজন করা হয়। অর্থাৎ বিষয়টি হঠাৎ করে চলতি অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নয়; বরং সংসদের নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই এগুলো স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


সংসদের স্পিকারের আসনের পেছনে কালেমা

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংসদ কক্ষের স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’।


ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে পরিচিত এই কালেমা। জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন ধর্মীয় ক্যালিগ্রাফি স্থাপনের বিষয়টি তাই প্রতীকী ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।


প্রবেশদ্বারে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’

শুধু সংসদ কক্ষের দেয়ালেই নয়, সংসদ ভবনের প্রবেশদ্বারগুলোতেও ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি সংযোজন করা হয়েছে বলে বিএনপির পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।


এই ভাষাটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সংবিধানের বর্তমান পাঠে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির অংশ হিসেবে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-এর উল্লেখ রয়েছে—যদিও একই সঙ্গে সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের নীতিও রয়েছে।


তবে এই বিষয়টির সাংবিধানিক ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও বিতর্কপূর্ণ। বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানে চার মূলনীতির একটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত হয়। পরবর্তীকালে সাংবিধানিক পরিবর্তনের ধারায় ধর্মনিরপেক্ষতাও আবার মৌলিক নীতির অংশ হিসেবে ফিরে আসে।


বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মিল

জাতীয় সংসদে এই সংযোজনের বিষয়টি বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।


২০২৫ সালের নভেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, দল ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে।


এর আগে বিএনপির নির্বাচনী বক্তব্যেও তারেক রহমান বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘absolute trust and faith in Almighty Allah’ যুক্ত করেছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথা বলেন এবং বলেন—ধর্ম ব্যক্তির, রাষ্ট্র সবার।


ফলে সংসদ ভবনে কালেমা ও ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজনকে বিএনপির বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অবস্থানের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


ধর্ম ও রাষ্ট্র—আবারও আলোচনায়

জাতীয় সংসদে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপনের ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনতে পারে।


একদিকে দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়টি রয়েছে। অন্যদিকে সংসদ হলো রাষ্ট্রের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও ধর্মবিশ্বাসহীন নাগরিক সবার।


বাংলাদেশের সংবিধানও একদিকে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির অংশ হিসেবে রেখেছে এবং নাগরিকদের ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার জন্ম দেওয়া স্বাভাবিক।


প্রতীকী পরিবর্তন, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা?


রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দিক থেকে দেখলে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপন কেবল একটি স্থাপত্যগত সংযোজন নয়—এটি সরকারের মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক দর্শনের একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করতে পারে।


বিশেষ করে বিএনপির নেতৃত্ব অতীতে সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি পুনঃস্থাপনের কথা বলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদ ভবনে একই ধরনের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রতীক যুক্ত করার ঘটনাকে দলের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।


তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সংসদ ভবনে এসব সংযোজনের তথ্যের প্রাথমিক সূত্র হিসেবে যে তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটি বিএনপির ফেসবুক পেজের পোস্ট। এখন পর্যন্ত আমাদের পাওয়া প্রতিবেদনে আলাদা কোনো সংসদ সচিবালয় বিজ্ঞপ্তি বা সরকারি নথি উদ্ধৃত হয়নি। তাই ঘটনাটিকে সংবাদে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই সূত্রগত বিষয়টি স্পষ্ট রাখা জরুরি।


নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি


সব মিলিয়ে, জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের পেছনে কালেমা তাইয়্যেবা এবং প্রবেশদ্বারে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীকের ব্যবহার, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে নতুন আলোচনার দ্বার খুলেছে।


এটি একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতীকী সম্পর্ককে সামনে আনছে; অন্যদিকে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমান মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।


অতএব, জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপনের ঘটনাটি শুধু একটি নতুন ক্যালিগ্রাফি সংযোজন নয়—বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র, ধর্ম এবং জাতীয় পরিচয়ের সম্পর্ক নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কেরও একটি দৃশ্যমান প্রতীক।