অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › আন্তর্জাতিক › রাশিয়ার কামচাটকায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক আতঙ্ক – তবে বড় ক্ষতির খবর নেই

রাশিয়ার কামচাটকায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক আতঙ্ক – তবে বড় ক্ষতির খবর নেই

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৪৮ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ 122
রাশিয়ার কামচাটকায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক আতঙ্ক – তবে বড় ক্ষতির খবর নেই

রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কামচাটকা উপদ্বীপে শনিবার ভোরে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্র (USGS) জানায়, কম্পনের উৎপত্তি ছিল পেট্রোপাভলস্ক-কামচাতস্কি শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার পূর্বে, ভূগর্ভের ৩৯ কিলোমিটার গভীরে।

প্রথম দিকের ঝুঁকি মূল্যায়নে সুনামির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপকূল এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায় সমুদ্রপৃষ্ঠে কোনো বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়নি, ফলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

ভূমিকম্প শুরু হতেই কামচাটকার প্রধান শহর ও আশপাশের এলাকায় ভবন দুলতে থাকে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং টেলিযোগাযোগ ব্যাহত হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। একজন স্থা“আমাদের মনে হচ্ছিল পুরো ঘরটা ভেসে যাচ্ছে। তবে সৌভাগ্য যে এবার বড় ক্ষতি হয়নি।”

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো পরীক্ষা করে দেখছে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল ও মেডিকেল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

কামচাটকা উপদ্বীপটি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ“প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার নামে পরিচিত ভূ-তাত্ত্বিক বলয়ের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় টেকটনিক প্লেট অন্যান্য প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত। এই কারণে এখানে প্রায়ই মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

পূর্বে এ অঞ্চলে একাধিক ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ১৯৫২ সালে কামচাটকায় ৯.০ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, যা বিশাল সুনামি সৃষ্টি করেছিল এবং প্রশান্ত মহাসাগরের একাধিক দেশে ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছিল। সে তুলনায় এবারের ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলেছে।

ভূমিকম্পবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত হলেও এর প্রভাব নির্ভর করে উৎপত্তিস্থল কত গভীরে এবং কোথায় সংঘটিত হয়েছে তার ওপর। যেহেতু এটি সমুদ্রের নিচে গভীর ভূস্তরে ঘটেছে, তাই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবুও পরবর্তী কয়েক দিনে আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভূমিকম্পের খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে। শেষ পর্যন্ত সুনামির কোনো হুমকি না থাকায় সবাই স্বস্তি ফিরে পায়।যদিও এবার বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও কামচাটকার মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ভূমিকম্প ও সুনামির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি সব সময় সচল রাখতে হবে।