Columbus, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির এজিএম অনুষ্ঠিত, গঠিত হলো নতুন কমিটি অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা
হোম › বাংলাদেশ › সফটওয়্যারে কারসাজি করে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তোলপাড় রংপুর সিটি করপোরেশনে

সফটওয়্যারে কারসাজি করে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তোলপাড় রংপুর সিটি করপোরেশনে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ 49
সফটওয়্যারে কারসাজি করে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তোলপাড় রংপুর সিটি করপোরেশনে


রংপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ অনিয়ম ও সফটওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সফটওয়্যার ও মূল সার্ভারের কোড পরিবর্তন করে একটি চক্র সরকারি রাজস্বের প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, কর আদায়ের ডিজিটাল ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কখনো অস্তিত্বহীন ‘ভূতুড়ে’ হোল্ডিং তৈরি করে, কখনো প্রকৃত বকেয়া কমিয়ে দেখিয়ে এবং কখনো জাল ব্যাংক সিল ব্যবহার করে রাজস্ব আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়।


কীভাবে সফটওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকার অর্থায়নে ২০১৫ সালে চালু করা হয়েছিল। সফটওয়্যারটিতে একক কোনো ব্যক্তির হাতে পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা ছিল না। মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের পৃথক অনুমোদন ও পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে কর-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল।


কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি অনুমোদন ছাড়াই সার্ভারের মূল কোড পরিবর্তন করা হয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে চলে যায় বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


‘ভূতুড়ে’ হোল্ডিং ও কর ফাঁকির অভিযোগ


রাজস্ব লুটের কৌশল হিসেবে অস্তিত্বহীন হোল্ডিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে বকেয়া দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। আবার বড় ভবন বা স্থাপনার প্রকৃত আয়তন ও মূল্যায়ন কম দেখিয়ে করের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


প্রতিবেদনে এমন কিছু হোল্ডিংয়ের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ নথিতে বড় অঙ্কের বকেয়া থাকলেও সফটওয়্যার বা জাল নথির মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সামান্য টাকা পরিশোধ করেই চূড়ান্ত কর রসিদ নেওয়া হয়েছে।


একটি ঘটনায় ‘ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’-এর একটি হোল্ডিংয়ে প্রকৃত বকেয়া ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৫০ টাকা। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ৫৬ হাজার ৪৫৩ টাকা পরিশোধ দেখিয়ে চূড়ান্ত রসিদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে সিটি করপোরেশন প্রকৃত বকেয়া উল্লেখ করে নতুন বিল দেয় এবং প্রতিষ্ঠানটি তা পরিশোধ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ব্যাংকের সিল জাল করার অভিযোগ


শুধু সফটওয়্যার পরিবর্তন নয়, করের টাকা আত্মসাতের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সিল জাল করার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, করদাতার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ দেখানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের ফলে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


সাবেক মেয়র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ


অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এই অনিয়ম পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আইনগত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কর আদায় শাখার কম্পিউটার অপারেটর আরিফুল ইসলাম সফটওয়্যারের মূল কোড পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তদন্ত ও জবাবদিহির প্রশ্ন


প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার রাজস্ব লুটের অভিযোগ সামনে আসায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—এই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে এমন অনিয়ম চলল।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থার সফটওয়্যারে অননুমোদিতভাবে পরিবর্তন আনা হলে সেটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বড় দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।


এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের সার্ভার লগ, ইউজার অ্যাক্টিভিটি, পরিবর্তিত কোড, হোল্ডিং ডেটা, ব্যাংক জমার রেকর্ড এবং কর রসিদ ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করা হলে জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।


নাগরিকদের রাজস্বের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন


সিটি করপোরেশনের নিজস্ব রাজস্ব নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেই রাজস্ব ব্যবস্থায় যদি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত নগরবাসীর ওপরই পড়ে।


তাই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি উঠেছে।


তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৫০ কোটি টাকা লুট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত; চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফল গুরুত্বপূর্ণ।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা