অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › জাতীয় › “ভারতীয় পণ্য বয়কট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রবাহ”

“ভারতীয় পণ্য বয়কট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রবাহ”

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ০৩ মে, ২০২৪ 247
“ভারতীয় পণ্য বয়কট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রবাহ”

মো: নাজমুল হাসান বাবু

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই তিনটি রাষ্ট্র একে অপরের সাথে অধরাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে আছে জন্মলগ্ন থেকে। ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের সাথে সুগভীর ভাবে মিশে আছে ভারতের নামটি তথাপি ধৃতকৃত হয়ে পাকিস্তানের নামটিও মিশে আছে বাংলাদেশের সাথে।


বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম লগ্ন থেকেই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ এর প্রথম শুরু হয়েছিল বিজয়ে দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণের দিন থেকেই। আমাদের সেই ঐতিহাসিক ক্ষনে বঞ্চিত করেছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেই অনুষ্ঠান থেকে দূরে সরিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের যে আগ্রাসন সেটার প্রথম সূচিকাগার রচিত হয়েছিল, পাকিস্তানি পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে বাংলাদেশ প্রবেশ করলো ভারতের দাসত্বের শিকলে। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র কয়েকটি বছর পেরিয়ে না যেতেই স্বাধীনতার অন্যতম রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ষড়যন্ত্র করে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে চেস্টা করল ভারত। সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ভঙ্গুর করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ও ভারতীয় রাজনীতির চতুরতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পরিচালনা করার ব্যর্থ চেষ্টা করলেন ভারত। ভারতের এই অপচেষ্টাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। 

ভারতের নানা ষড়যন্ত্রকে ভেদ করে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে আসলেন দেশপ্রেমিক জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনারথে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দীপ্ত চ্যাতা রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশের সার্বভ ঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার যে অগ্রগতি সেটা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও ভারতীয় রাজনীতিবিদরা কখনোই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। আধুনিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রের রূপকার ক্ষণজন্মা এই মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হত্যা করে বাংলাদেশকে ভারত আবারো তাদের নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন, থমকে যায় বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক সকল বিষয়। বাংলাদেশ যখনই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে তখনই ভারত তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বারবার।


বিগত ১৮ বছর বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টায় একে একে ধ্বংস করেছে রাজনীতি, আইনের শাসন, বাজার ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, শিল্প-সংস্কৃতি ও হত্যা করেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জনগণের মনে ভারতের প্রতি ঘৃণার যে আবা সেটাও বিস্তৃতি ঘটেছে বহু গুনে। মানুষ এখন প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার ক্ষমতাটুকু হারিয়ে ফেললেও প্রতিবাদের ভাষাটুকু যেয়ে পড়ছে ভারতীয় পণ্যের উপর যা প্রতিটি মানুষ ইচ্ছে করলেই ভারতীয় পণ্য না কিনে নিরবে প্রতিবাদ করতে পারছে, তার ফলেই প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বয়কটের প্রখরতা তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের বাজার মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলাদেশে, যা ভরতের অর্থনৈতিক বিভিন্ন সুচক গুলো দেখলেই আমরা স্বাভাবিকভাবে বুঝতে পারছি যে বিগত দিনে ভারতের পণ্য বাংলাদেশে যেভাবে আসতো এখন তার গ্রাফ অনেকটা নির্মমুখী। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক লোক পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা করেন, এবার ঈদে বাংলাদেশীদের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা থেকে বিরত থেকেছেন যার ফলশ্রুতিতে অনেক ছোট দোকানি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। একজন লেখক একজন ইউটিউবার “পিনাকী ভট্টাচার্য” অনলাইন এর মাধ্যমে তার ছোট্ট একটি ডাক “ভারতীয় পণ্য বর্জন” আজ মহা এক বিপ্লবের নামে রূপান্তরিত হয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশি ভারতপন্থী লোকজনের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাকটি। আপাতত দৃষ্টিতে তাকালেই দেখতে পাচ্ছি ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক আগামী দিনে ছড়িয়ে পড়বে দূর থেকে অনেক দূর। 

ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয়রা যেভাবে চিন্তা করেন তাদের মন ও মস্তিষ্কে যদি বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ইতিবাচক চিন্তার উদ্ভব না ঘটে তাহলে আগামী দিনে পণ্য বয়কট থেকে ভারত বিরোধিতা আরো চরমে পৌঁছাবে সেটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এটার ফল ভারতকে ভোগ করতে হবে অনেক সময় ধরে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভারত পরিচালিত করতে চাচ্ছে, যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারত নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে ভারতের শিক্ষিত যুবসমাজকে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করছে, তার প্রতিশোধ বাংলাদেশের জনগণ করাই-গন্ডায় নিবে এর উৎপত্তিস্থল সৃষ্টি হয়েছে এই ভারতীয় পণ্য বয়কটের মধ্য দিয়ে। ভারত যদি চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র গুলো তাদের প্রতি বা তাদের নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কি মনোভাব প্রকাশ করে, তাহলে হয়তো তারা অনেক সমীকরণ নিজেরাই মিলিয়ে নিতে পারবে।