অনলাইন, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
এক হালি কমলা নিলামে অর্ধলক্ষ টাকা বিক্রি হাজারীহাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেধাবীদের বৃত্তি ও সাবেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় সহায়তা সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নাসিরনগরে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ পানি, এখনই সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি: এলজিআরডি মন্ত্রী দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে নিপীড়নের অভিযোগ কুড়িগ্রামে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে রেলি , আলোচনা সভা ও চক্ষু সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত । ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদারের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের সমাবেশ শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত, ‘আইনি প্রক্রিয়াতেই’ হবে সিদ্ধান্ত সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গ্রেপ্তার বিকেলে আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম স্ত্রীর মামলায় পুলিশের হাতে আটক শিক্ষক কাইছারুজ্জামান প্রেমিকা এনি পলাতক যশোরে ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষেত, লোকসানের মুখে কৃষক যশোর সীমান্তে ২৬ লাখ ৬ হাজার টাকার চোরাচালানী মালামাল ও মাদকদ্রব্য জব্দ
হোম › বাংলাদেশ › ‘১২ কোটি টাকা ফেরত চাই’: কুড়িগ্রামে চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

‘১২ কোটি টাকা ফেরত চাই’: কুড়িগ্রামে চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 35
‘১২ কোটি টাকা ফেরত চাই’: কুড়িগ্রামে চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করা প্রায় ১২ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্য ও স্বজনেরা অংশ নেন। তারা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


‘ভিশন এন্টারপ্রাইজে’ বিনিয়োগের অভিযোগ


ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির নেতা রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।


তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াতের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে প্রায় ১২ কোটি টাকা নেওয়া হয়। পরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।


ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ ফেরত পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তারা প্রকাশ্যে কর্মসূচিতে নামেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।


জামায়াতের সাংগঠনিক ব্যবস্থা


অভিযোগের বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের তদন্তের পর রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট)-এর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে অপর দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা তদন্তে তেমনভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।


জেলা জামায়াতের আমীর আরও বলেছেন, ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরতের বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসঙ্গত যেকোনো পদক্ষেপে দল পাশে থাকবে।


অভিযোগ অস্বীকার শাহজালালের


অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল সবুজ তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ মূলত রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট)-এর ব্যক্তিগত ব্যবসা। ২০২০ সালে ভবিষ্যতে যৌথভাবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কয়েকজনের মধ্যে একটি চুক্তি হলেও সেই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাকে ওই চুক্তির মাধ্যমে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট) দাবি করেছেন, চারজন পরিচালক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসাটি পরিচালনা করেছিলেন। তার ভাষ্য, চুক্তির বাইরে আরও দুজন ব্যক্তি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতেন এবং ব্যবসার আর্থিক সুবিধার সঙ্গে তারাও যুক্ত ছিলেন।


ভুক্তভোগীদের দাবি


মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত অভিযোগের তদন্ত, বিনিয়োগকারীদের অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা জানান, দীর্ঘ সময় অর্থ ফেরত না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।


মানববন্ধন থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।


অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।