অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › জাতীয় › ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:০৭ এএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ 34
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ঢাকা প্রতিনিধি॥


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, দেশে আবারও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কার মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি, রাহাজানি, লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।


শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নাগরিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে দুর্নীতির মহোৎসব চলেছিল, এখন আবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা প্রয়োজন।


তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যাদের পকেট ভর্তি হয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলেও কোনো দুর্নীতিবাজ যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি জোরদারের কথাও বলেন তিনি। 


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে টাকার শক্তি, দুর্নীতির অর্থ কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে কেউ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জনগণেরই জয় হওয়া উচিত।


পাটওয়ারী চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাবনা নেই বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যেখানে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, লুণ্ঠন ও নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ঐক্যের সুযোগ থাকতে পারে না।


একই অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দলের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতা এনসিপির হাতে যাবে; বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে না—এমন বক্তব্যও দেন তিনি। এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের অবস্থান হিসেবে এসেছে; এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ফলাফল নয়।


পাটওয়ারীর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা উঠে আসে। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মতো অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।


২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কাল প্রসঙ্গে পাটওয়ারীর বক্তব্যের পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। ওই সময় বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচক নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০০৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুর্নীতি তখন বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের পথে একটি গুরুতর বাধা ছিল। একই সময়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সর্বনিম্ন অবস্থানগুলোর একটিতে ছিল।


তবে বর্তমান সময়ে দুর্নীতির পরিস্থিতি ২০০১–২০০৬ সালের সঙ্গে একই মাত্রায় পৌঁছেছে কি না—এটি পাটওয়ারীর রাজনৈতিক মূল্যায়ন। তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণের জন্য বর্তমান সময়ের দুর্নীতির পরিসংখ্যান, মামলা, তদন্ত ও স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূচকের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


সাতকানিয়ার এই মতবিনিময় সভায় পাটওয়ারীর বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকানো এবং এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা। বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর দলের অবস্থানও তুলে ধরেন।