অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয়
তিমির বনিক,
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অনুমোদনহীন হলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় চারটি করাতকল (স-মিল) পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকলে বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অনুমতি পত্র বিহীন কাঠ সংগ্রহ করে দিন-রাত চেরাই করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রয়েছে করাতকলে বিদ্যুৎ সংযোগও।
জানা গেছে, জুড়ী রেঞ্জের আওতাধীন অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলগুলোর নাম হলো কালীবাড়ি রোডের চৌধুরী স-মিল, পশ্চিম ভবানীপুরের মামুনুর রশিদ সাজুর স-মিল, বাছিরপুরের হোসেন মিয়ার (ভাড়ায় চালিত) স-মিল, ভবানীগঞ্জ বাজার গুদাম রোডের শেখ এন.জি জারিনের স-মিল।
এসব করাতকলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন না থাকলেও নিয়মনীতির তুয়াককা না করে নিয়মিতভাবে কাঠ চেরাইয়ের কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে কাঠ এনে দিন-রাত এসব স-মিলে চেরাই করা হচ্ছে। এতে বনজ সম্পদ রক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সচেতন ব্যক্তিরা।
অবৈধভাবে পরিচালিত এসব করাতকলে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও সহযোগিতা ছাড়া এভাবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, বন বিভাগকে বলেছি তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, যদি কাগজপত্র নেই এমন সেগুলো আমরা যাচাই করে ব্যবস্থা নিব। এবিষয়ে জানতে চাইলে জুড়ী ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধ স-মিলগুলোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স-মিলগুলো উচ্ছেদ করতে হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি সময় দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।