Columbus, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির এজিএম অনুষ্ঠিত, গঠিত হলো নতুন কমিটি অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা
হোম › রাজনীতি › দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব: নুর

দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব: নুর

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:৩১ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 62
দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব: নুর

ঢাকা প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা


“সুনির্দিষ্টভাবে কেউ দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ করতে পারলে যেদিন প্রমাণ করবে, সেদিন দায়িত্ব ছেড়ে দেব।”—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের এমন বক্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মীসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।


নুর বলেন, তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা কথা বলা হলেও কেউ নির্দিষ্টভাবে দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবেন না বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রমাণ হাজির করা গেলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।


শুধু নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, পাল্টা অভিযোগও


নুরুল হক নুরের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য।


তিনি দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।


তবে এ বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্য প্রতিবেদনে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট দুর্নীতি মামলার রায়, তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে নুরের এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।


এনসিপিকেও তীব্র আক্রমণ


কর্মীসভায় নুর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এনসিপিকে দাঁড় করাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের ‘মাফিয়া লুটেরাদের’ পুনর্বাসন করেছে এবং দলের নেতাদের বিপুল অর্থের মালিক বানিয়েছে বলে দাবি করেন।


এনসিপির নেতাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যও তাঁর রাজনৈতিক দাবি; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে এগুলোকে উপস্থাপন করা যায় না।


‘নতুন বাংলাদেশ’ নিয়ে নুরের বক্তব্য


নুর বলেন, পরিবর্তনের যে লড়াই শুরু হয়েছে, তার শেষ দেখে যেতে চান তাঁরা। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য তাঁদের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের অর্থে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


এখন প্রশ্ন—প্রমাণের অপেক্ষা কতদিন?


নুরুল হক নুরের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই যে, তিনি শুধু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেননি; বরং “প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব”—এমন প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন।


অন্যদিকে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তাঁর শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও এখন রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন উপাদান। কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক বিষয় নয়।


তাই নুরের বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—যদি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, সেটি কি তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে সামনে আনা হবে? আর নুরের নিজের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তার তদন্তের ক্ষেত্রেও কি একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে?


শেষ পর্যন্ত রাজনীতির উত্তপ্ত বক্তব্য নয়, নথি ও তদন্তই বলে দেবে—কার অভিযোগ সত্য, আর কার দাবি রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।