অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › অর্থনীতি › জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সংকটমুক্তির লক্ষ্য সরকারের

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সংকটমুক্তির লক্ষ্য সরকারের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 45
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সংকটমুক্তির লক্ষ্য সরকারের

ঢাকা প্রতিনিধি ||


দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সাল থেকে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আনা, ২০২৮ সালে আরও উন্নতি করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকটমুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার জাতীয় সংসদে চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।


দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ


প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে দ্রুত সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


এ ছাড়া চলতি সপ্তাহেই জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১ হাজার ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ক্যাপাসিটি চার্জ না দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।


গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা


সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কূপে ইতোমধ্যে কাজ চলছে।


এই কূপগুলো থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২০২৬ সালের অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে। ২৬টি অফশোর ব্লকে—১৫টি গভীর সমুদ্র ও ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লকে—অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


বাড়ানো হবে এলএনজি সরবরাহ ও অবকাঠামো


গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে অন্তত দুটি নতুন এফএসআরইউ নিয়ে চুক্তি করার লক্ষ্য জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।


ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ


দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রিফাইনারিটির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমান ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।


এই আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IsDB) ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও IsDB-এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।


নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাড়ছে গুরুত্ব


দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে এ অংশ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রুফটপ সোলার, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।


সংসদে বিরোধী দলের প্রস্তাব


জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের পাশাপাশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর জ্বালানি সেল বা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।


সরকারের পক্ষ থেকে সংকটের জন্য অতীতের নীতি ও ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হলেও বিরোধী পক্ষ বর্তমান ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে।


বর্তমানে দেশের বার্ষিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে উৎপাদন প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। চাহিদা প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘাটতি কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।