অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › জাতীয় › পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে? টিআইবির প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে? টিআইবির প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ 96
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে? টিআইবির প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক

ঢাকা প্রতিনিধি॥

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ—টিআইবি বলেছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় তাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করায় প্রতিমন্ত্রীর আচরণেরও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।


সংবিধানের বিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের একটি অংশ সংসদ সদস্য না হয়েও নিয়োগ পেতে পারেন। তবে তাঁদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।


অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হতে পারেন।


তবে সংবিধানের ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিকত্ব পরবর্তীতে ত্যাগ করার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়েছে কি না এবং কখন ত্যাগ করা হয়েছে—এ বিষয়টি বিতর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


টিআইবির আপত্তি কোথায়?

টিআইবির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় যদি হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকে, তাহলে টেকনোক্র্যাট কোটায় তাঁর নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।


সংস্থাটি তাঁর নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রশ্নকর্তাদের দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেছে টিআইবি।


সরকারের বক্তব্য কী?

বিতর্কের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তাঁর নিয়োগ সংবিধান মেনেই হয়েছে।


অর্থাৎ সরকারের অবস্থান হলো, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর এমন কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব ছিল না, যা তাঁর নিয়োগকে সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।


তবে প্রকাশ্যে আসা বক্তব্যে নাগরিকত্ব ত্যাগের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির বিস্তারিত এখনো সামনে আসেনি। ফলে বিতর্কের মূল প্রশ্নটি এখন দাঁড়িয়েছে—হুমায়ুন কবির ঠিক কবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর আইনগত নাগরিকত্বের অবস্থান কী ছিল?


বিতর্কের মূল জায়গা কোথায়?

এই বিতর্ক শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি নিয়োগের স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা।


এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—টিআইবির বক্তব্য একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে; এটি কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। একইভাবে সরকারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রী নিয়োগকে সাংবিধানিক বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।


ফলে বিষয়টির নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের তারিখ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশ করা। এতে একদিকে তাঁর সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের অবসান হতে পারে, অন্যদিকে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও আরও স্পষ্ট হবে।


রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক সরকারের জন্যও অস্বস্তিকর। কারণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করতে হয়।


তাই নাগরিকত্বের মতো মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্নে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে না; সরকারের স্বচ্ছতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


অন্যদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সংস্কৃতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যমের প্রশ্নকে এড়িয়ে না গিয়ে তথ্য ও নথির মাধ্যমে উত্তর দেওয়া হলে বিতর্ক দ্রুত শেষ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।


সামনে কী?

এখন নজর থাকবে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ ও তারিখ প্রকাশ করা হয় কি না, এবং এ বিষয়ে সরকার আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয় কি না।


সবশেষে বলা যায়, এটি আপাতত একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক—চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নয়। তাই প্রমাণ ও সরকারি নথি সামনে না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধানের সরকারি পাঠ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।