অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › আমেরিকা › ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ

ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 31
ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়িয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC) ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যসীমা ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। নতুন হার ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।


তিন বছরেরও বেশি সময় পর ফেডের নীতিগত সুদহার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন করে নজর কেড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঋণের ব্যয় ও বিনিয়োগের পরিবেশে এর প্রভাব পড়তে পারে।


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের পদক্ষেপ


ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনো স্থিতিশীল গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ব্যয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মূলধনী বিনিয়োগও শক্তিশালী রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতি প্রয়োজন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।


ফেডের সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির গতিপথের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


ঋণের খরচ বাড়ার সম্ভাবনা


সুদের হার বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য পরিবর্তনশীল সুদের ঋণে। বিশেষ করে নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য অর্থের ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদ সঞ্চয়কারী ও আমানতকারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি রিটার্নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।


তবে ফেডের নীতিগত হার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ধকী ঋণের সুদ একইভাবে নির্ধারিত হয় না। ফলে সব ধরনের ঋণের সুদ একসঙ্গে একই মাত্রায় বাড়বে—এমন সরল সম্পর্ক নেই।


বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব


যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। হার বাড়লে ডলারভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে মূলধন প্রবাহ, বিনিময় হার ও ঋণব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।


ফেডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর বৈশ্বিক বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে নতুন করে সতর্কতা দেখা গেছে। রয়টার্সের ১৮ সেপ্টেম্বরের বাজার বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওপরে ওঠার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।


আরও সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত


ফেডের নীতিনির্ধারকদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও একটি সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা উঠে এসেছে। তবে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।


এর অর্থ হলো, সামনের মাসগুলোতে ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুদের হার, জ্বালানি মূল্য এবং মূল্যস্ফীতির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।


বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব


যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পরোক্ষভাবে পড়তে পারে। বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা ও বিনিময় হারে পরিবর্তন হলে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অর্থায়নে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।


তবে বাংলাদেশের ওপর এর নির্দিষ্ট প্রভাব নির্ভর করবে ডলারের গতিপথ, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কাঠামো এবং দেশের নিজস্ব মুদ্রানীতিসহ একাধিক বিষয়ের ওপর। তাই শুধু ফেডের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট মাত্রার প্রভাবের পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।


জ্বালানি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ


ফেডের সিদ্ধান্তের সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও জ্বালানি বাজারের এই চাপকে বৈশ্বিক মুদ্রানীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


ফলে আগামী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।