Columbus, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে দুর্যোগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা স্বাস্থ্যসেবায় ডা. সিনথিয়া তাসমিন দেশে দ্বিতীয়, বিভাগে স্ক্রিনিংয়ে শ্রেষ্ঠ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করে জাতীয়করণের দাবি মার্কিন প্রতিনিধি দলের বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: এলজিআরডি মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে শিশুদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর *ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী* ভোগডাঙ্গায় ৫নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গণসংযোগে মেম্বার পদপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম নয়ন আমাদের সন্তানদের ফাঁসানো হয়েছে;কুষ্টিয়ায় ডিবির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে পরিবার। শোকের সাত বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের অপেক্ষা নওগাঁয় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির এজিএম অনুষ্ঠিত, গঠিত হলো নতুন কমিটি অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা
হোম › বাংলাদেশ › শোকের সাত বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের অপেক্ষা

শোকের সাত বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের অপেক্ষা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:০৪ এএম, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ 32
শোকের সাত বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের অপেক্ষা

তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া |

New York Voice Bangla


কুষ্টিয়া, ৭ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন তিনি।


মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কয়েকটি চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার জেরে আবরারকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।


মৃত্যুর সাত বছর পরও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন আবরারের পরিবার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো আগের মতোই সংরক্ষিত রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল ও অন্যান্য স্মৃতি। শুধু নেই পরিবারের প্রিয় সন্তানটি।


আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ বুলু ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন। বাবা বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর ছেলে শহীদ হয়েছে, সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি দ্রুত হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় কার্যকর দেখতে চান।


অন্যদিকে, নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান ১০৫ বছর বয়সী আবরারের দাদা আব্দুল গফুর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই প্রবীণ এখনো বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।


রায় থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি


আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।


পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। এতে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।


তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল ও লিভ টু আপিল করেছে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হলেও মামলাটি এখনো আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠেনি।


মামলার দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। তিনজন এখনো পলাতক। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, পলাতক আসামিদের কেউ কেউ ভারতে অবস্থান করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আবরারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রায় কার্যকর করা। ছেলের স্মৃতি বুকে ধারণ করে থাকা পরিবারটি এখন অপেক্ষা করছে সেই দিনের, যেদিন তারা ন্যায়বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে পারবেন।