শোকের সাত বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের অপেক্ষা
তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া |
New York Voice Bangla
কুষ্টিয়া, ৭ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন তিনি।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কয়েকটি চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার জেরে আবরারকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
মৃত্যুর সাত বছর পরও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন আবরারের পরিবার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো আগের মতোই সংরক্ষিত রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল ও অন্যান্য স্মৃতি। শুধু নেই পরিবারের প্রিয় সন্তানটি।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ বুলু ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন। বাবা বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর ছেলে শহীদ হয়েছে, সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি দ্রুত হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় কার্যকর দেখতে চান।
অন্যদিকে, নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান ১০৫ বছর বয়সী আবরারের দাদা আব্দুল গফুর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই প্রবীণ এখনো বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
রায় থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। এতে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।
তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল ও লিভ টু আপিল করেছে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হলেও মামলাটি এখনো আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠেনি।
মামলার দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। তিনজন এখনো পলাতক। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, পলাতক আসামিদের কেউ কেউ ভারতে অবস্থান করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আবরারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রায় কার্যকর করা। ছেলের স্মৃতি বুকে ধারণ করে থাকা পরিবারটি এখন অপেক্ষা করছে সেই দিনের, যেদিন তারা ন্যায়বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে পারবেন।