Columbus, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির এজিএম অনুষ্ঠিত, গঠিত হলো নতুন কমিটি অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা
হোম › রাজনীতি › তেলের সংকটের আড়ালে ‘মুখের তেল’—শফিকুর রহমানের কটাক্ষে তোষামোদ রাজনীতির প্রশ্ন

তেলের সংকটের আড়ালে ‘মুখের তেল’—শফিকুর রহমানের কটাক্ষে তোষামোদ রাজনীতির প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 44
তেলের সংকটের আড়ালে ‘মুখের তেল’—শফিকুর রহমানের কটাক্ষে তোষামোদ রাজনীতির প্রশ্ন

ঢাকা প্রতিনিধি:


দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তোষামোদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে তেলের সংকট চললেও ‘মুখের তেল’ বন্ধ হলে তেলের সংকট থাকবে না। তাঁর এই বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ক্ষমতাকেন্দ্রিক তোষামোদ ও বাস্তবতা আড়াল করার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়টি সামনে এসেছে।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন। আলোচনাটি ছিল তাঁর উত্থাপিত একটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ওপর।


‘মুখের তেল’ বলতে শফিকুর রহমান মূলত তোষামোদ বা চাটুকারিতাকে বোঝান। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল—ক্ষমতাসীনদের চারপাশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হলে, যেখানে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে প্রশংসা বেশি গুরুত্ব পায়, সেখানে সরকারের কাছে দেশের প্রকৃত সংকটের চিত্র যথাযথভাবে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে তিনি জ্বালানি সংকটের আলোচনার সঙ্গে রাজনৈতিক তোষামোদ বন্ধের প্রয়োজনীয়তাকেও যুক্ত করেছেন।


শফিকুর রহমান একই আলোচনায় সংসদে দেওয়া সরকারি আশ্বাস এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মিটার ও ডিমান্ড চার্জ না নেওয়ার মতো কিছু বিষয়ে সংসদে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একইভাবে বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে ভালো পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।


বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি নিজের সাম্প্রতিক লংমার্চের অভিজ্ঞতার কথাও বলেন। বিভিন্ন জেলা ও বাজারে থামার সময় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের একটি বড় অংশের মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। তাঁর ভাষায়, একটি দেশ যখন বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে, তখন দেশ ‘পাওয়ারলেস’ হয়ে যায়। তিনি চান বাংলাদেশ একটি ‘পাওয়ারফুল’ জাতি হিসেবে এগিয়ে যাক।


তবে শফিকুর রহমানের বক্তব্য শুধু সরকারের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাবও দেন। তাঁর ভাষ্য, সরকার চাইলে বিরোধী দলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। সংকট সমাধানে কে কৃতিত্ব নেবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়—দেশের স্বার্থে সমাধান করাই প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।


অন্যদিকে সরকার বলছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দের কথাও সংসদে জানানো হয়েছে।


সব মিলিয়ে শফিকুর রহমানের ‘মুখের তেল’ মন্তব্যটি কেবল একটি রসিকতাপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এর মধ্য দিয়ে তিনি তোষামোদনির্ভর রাজনীতির বদলে বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সরকারের প্রতি সমালোচনার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক জ্বালানি-বিদ্যুৎ বিতর্কে মন্তব্যটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গের পাশাপাশি সরকারের কর্মদক্ষতা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়ে একটি বড় প্রশ্নও সামনে এনেছে।