Columbus, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বিকেলে আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম স্ত্রীর মামলায় পুলিশের হাতে আটক শিক্ষক কাইছারুজ্জামান প্রেমিকা এনি পলাতক যশোরে ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষেত, লোকসানের মুখে কৃষক যশোর সীমান্তে ২৬ লাখ ৬ হাজার টাকার চোরাচালানী মালামাল ও মাদকদ্রব্য জব্দ ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে দুর্যোগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা স্বাস্থ্যসেবায় ডা. সিনথিয়া তাসমিন দেশে দ্বিতীয়, বিভাগে স্ক্রিনিংয়ে শ্রেষ্ঠ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করে জাতীয়করণের দাবি মার্কিন প্রতিনিধি দলের বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: এলজিআরডি মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে শিশুদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর *ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী* ভোগডাঙ্গায় ৫নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গণসংযোগে মেম্বার পদপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম নয়ন আমাদের সন্তানদের ফাঁসানো হয়েছে;কুষ্টিয়ায় ডিবির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে পরিবার। শোকের সাত বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের অপেক্ষা
হোম › বাংলাদেশ › তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার

তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 46
তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:


উজানের ঢল ও নদীর প্রবল স্রোতে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চর এলাকায় গত কয়েক দিনে তীব্র ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টায় অন্তত ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে চলে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ২০০ পরিবার।


এক রাতেই বিলীন বহু বসতভিটা


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাত থেকে ভোরের পাখি চর এলাকায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও গবাদিপশুর স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০টি পরিবারের বসতভিটা এক রাতেই নদীগর্ভে চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখন খোলা জায়গা, বাঁধ কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।


এলাকাটিতে চলতি বর্ষা মৌসুমে এর আগেও একাধিক দফা ভাঙন হয়েছে। গত ১৬ জুলাই আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ১০০ পরিবারের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ১৮ আগস্ট ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হয়।


ঝুঁকিতে আরও দুই শতাধিক পরিবার


ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকার আরও অন্তত ২০০ পরিবার এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত নদীতীর রক্ষায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলার দাবি জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে।


সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা প্রস্তুত হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবারও বিতরণ করা হয়েছে।


তিস্তায় পানির চাপও বাড়ছে


গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে আগের ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার বেড়েছিল। তবে ওই পয়েন্টে পানি তখনও বিপৎসীমার নিচে ছিল। অর্থাৎ বর্তমান সংকটের বড় দিকটি হলো নদীর তীব্র ভাঙন, শুধু বন্যার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করা নয়।


অন্যদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলে নতুন করে ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রও ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে।


স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি


বারবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা হারানো মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। অন্যথায় বর্ষা ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবার বসতভিটা হারাতে পারে।