ইউক্রেন যুদ্ধে শ্বাসরোধী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে
ঢাকা প্রতিনিধি, মো: আরিফুল ইসলাম
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শ্বাসরোধী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, ইউক্রেনের সেনাদের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধকারী এজেন্ট ক্লোরোপিক্রিন গ্যাস ব্যবহার করছে রাশিয়া।বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধকারী এজেন্ট ক্লোরোপিক্রিন গ্যাস এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করছে রাশিয়া যা আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সমতুল্য।‘ইউক্রেনের ওপর লাগাতার হামলা, সেখানে রাসায়নিক অস্ত্রের প্রয়োগ এবং বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনির মৃত্যুর দায়ে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার উপর আরো এক দফা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে সে দেশে অস্ত্র উৎপাদন আরো কঠিন করে তুলতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর আওতায় চীন, বেলজিয়াম, স্লোভাকিয়া, আজেরবাইজান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে প্রায় ২০০ কোম্পানি ও প্রায় ৮০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই সব কোম্পানি ও ব্যক্তি রাশিয়াকে অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ায় রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র উৎপাদন বানচাল করতেও সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে ওয়াশিংটন।ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা জগত রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসছে। অথচ নানা কৌশলে রাশিয়া সেই সব শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ধাক্কা সামলে চলেছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমন দুর্বলতা দূর করতে মার্কিন প্রশাসন অন্যান্য দেশের দিকে নজর দিচ্ছে। রাশিয়া যাতে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ঘুরপথে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে না পারে, তা যতটা সম্ভব নিশ্চিত করাই এমন উদ্যোগের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সহযোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয় চাপাতে চায় ওয়াশিংটন।তারা আরও জানিয়েছে, অন্তত ৫০০ ইউক্রেনীয় সৈন্যকে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার জন্য চিকিৎসা করা হয়েছে এবং একজন টিয়ার গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছে।তবে অনেক আগে থেকেই যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া।