লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী
ঢাকা: দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান গ্যাস-সংকট নিয়ে সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই।মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (Floating Storage and Regasification Unit) মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি করা কঠিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংকটের সময়ে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস উত্তোলন ও আমদানি করা গ্যাসের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতা রয‘এখন আমার কিছু করার নাই’
সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এ মুহূর্তে পরিস্থিতি মূলত বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যেই পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না বা উইদাউট এফএসআরইউ, আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না।”
মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় এফএসআরইউগুলোর ভূমিকা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি টার্মিনাল মেরামতের বাইরে থাকলে আমদানি করা এলএনজি পুনর্গ্যাসীকরণ করে পাইপলাইনে সরবরাহের সক্ষমতা কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানাগ্যাস সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনে
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ ব্যবস্থায় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন তৈরি হতএর আগেও বিদ্যুৎমন্ত্রী জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এপ্রিল মাসে সিপিডির একটি সেমিনারে তিনি জানিয়েছিলেন, পিক আওয়ারে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। )
এদিকে সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। জুন ২০২৬-এ মন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭৮১ দশমিক ০৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। (Macro Finance Da)
শিল্পকারখানায় বাড়ছে উদ্বেগগ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়েছিল। বিজিএমইএর পক্ষ থেকেও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।BSS)
অর্থাৎ, বর্তমান সংকট শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডএফএসআরইউ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
এফএসআরইউ হলো সমুদ্রভিত্তিক একটি ভাসমান টার্মিনাল, যেখানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ করা হয়। এরপর সেই গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।মহেশখালী এলাকায় বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় এ ধরনের ভাসমান টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে একটি এফএসআরইউ কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল এবং এর প্রভাব বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে পড়েছিল। মেরামতের পর টার্মিনালটি আবার চালু হলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
সংকট সামাল দিতে ‘ম্যানেজমেন্ট’
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সীমিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা করা। এর অর্থ হলো—যেখানে গ্যাস বা বিদ্যুতের চাহিদা বেশি, সেখানে সরবরাহের ভারসাম্য তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণ এর আগে মন্ত্রীও জ্বালানি সংকটের সময় সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরবরাহ সীমিত থাকলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম উপায়। (Proth)
সামনে কী?
বর্তমান সংকট কত দ্রুত কাটবে, তার বড় অংশ নির্ভর করছে এফএসআরইউ মেরামত ও পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার ওপর। একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন, এলএনজি আমদানি, পাইপলাইন সক্ষমতা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কার্যকর রাখতে হবদীর্ঘমেয়াদে বিশেষজ্ঞরা দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সরকারও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে—২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। (Macro Financ)
তবে তাৎক্ষণিক বাস্তবতা হলো, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের ওপর চাপ থেকেই যাচ্ছে। আর সেই বাস্তবতায় বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং এফএসআরইউ মেরামত শেষ হওয়ার অপেক্ষাই সরকারের প্রধান ভরসতথ্যসূত্র: প্রথম আলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সরকারি তথ্যভাণ্ডার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।া।
om Aloকরা।
।
(
য়।
়েছে।