জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন: বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টায় শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট গণনা শুরু হয়।
ভোটার ও বুথের চিত্র
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৯১৯ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে মোট ২২৪টি বুথে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছাত্রদের ১১টি হলে ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৬৫ এবং ছাত্রীদের ১০টি হলে ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৫৪।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের বিপরীতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। এতে ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রসহ মোট আটটি প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনী মাঠে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করে।
ছাত্রদলের বর্জন ঘোষণা
তবে বিকেলের দিকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিকেল ৪টার দিকে মওলানা ভাসানী হলের গেস্ট রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।
জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা জানতাম এ নির্বাচন পাতানো। তাজউদ্দীন হলে ভোটার লিস্টে ছবি না থাকায় দুই ঘণ্টা নির্বাচন বন্ধ ছিল। ২১ নম্বর হলে ছাত্রশিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় মব তৈরি হয়। জাহানারা ইমাম হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। মেয়েদের হলে একই শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড পরিবর্তন করে বারবার ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের বর্জনের ঘোষণা আসার পর ক্যাম্পাসে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। বিকেল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে সতর্ক অবস্থান নেয়।
ভোট গ্রহণ শেষ হলেও অভিযোগ ও বর্জনের ঘটনায় এবারের জাকসু নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিনেট হলে ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।