রাখাইনে নতুন সংঘাত, মিয়ানমারের হাজারো মানুষ উদ্বাস্তু
ঢাকা প্রতিনিধি, মো: আরিফুল ইসলাম
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।এই ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার মানবাধিকার কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক তদন্তকারীরা সংঘাতে বিপর্যস্ত রাখাইনের ক্রমবর্ধমান লড়াইয়ের ওপর নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন।নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছেন তারা।মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিটি আইআইএমএম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রাখাইনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ এবং সেখানে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না তা মূল্যায়ন করছে তারা।শুধু তা–ই নয়,বুথিডাং শহর থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে নিয়ে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।অভিযোগ করা হয়েছে, আরাকান আর্মির যোদ্ধারা রোহিঙ্গাদের জোর করে উদ্বাস্তু করেছে।মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।গত সপ্তাহে রাখাইনের বুথিডাং শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আরাকান আর্মি।তাদের মতে,এটা মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে সংগঠনের বিজয়ের সর্বশেষ নজির।আরাকান আর্মি জানিয়েছে, বাসিন্দাদের শহর ছাড়তে সতর্ক করা হয়েছিল।তাদের আরাকান আর্মি–অধ্যুষিত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে সহায়তাও করা হয়েছে।যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বুথিডাংয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে অভিযোগ আরাকান আর্মির।তারা বলছে, আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে শহরটিতে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা চালিয়েছে জান্তা সেনারা এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন,রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতা-সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও নতুন করে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি করেছে।স্থানীয় বেসামরিক মানুষজনকে সুরক্ষা দেওয়া ও সেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে মিয়ানমারের জান্তা ও সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।