অনলাইন, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হোম › অর্থনীতি › ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে

ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 40
ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে

নিজস্ব প্রতিনিধি ||


ডলার শক্তিশালী হলে টাকার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণের খরচে চাপ তৈরির আশঙ্কা


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ডলারের গতিপথ, বৈশ্বিক ঋণবাজার এবং দেশের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির ওপর। তবে ফেডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং আন্তর্জাতিক ঋণের খরচ বাড়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও বৈদেশিক অর্থায়ন-নির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।


১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC) সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো উঁচু এবং এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।


ডলার শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের সামনে যে চাপ


ফেডের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মূল্য বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর ডলার সূচক প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। বাজারে আরও সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।


বাংলাদেশের জন্য এর একটি সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ডলারের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১ ডলারে ১২৩ দশমিক ০০৭৮ টাকা। একই সময়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিড-আস্ক রেট ছিল প্রায় ১২২ দশমিক ৯০ থেকে ১২৩ টাকা।


টাকার অবমূল্যায়ন হলে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ বাড়তে পারে। তবে ফেডের সিদ্ধান্ত একাই এসব ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই; বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আমদানি চাহিদা, রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও ডলারের সরবরাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বৈদেশিক ঋণ ও অর্থায়নে বাড়তে পারে ব্যয়


যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ফেডের সুদহার বাড়লে সাধারণত আন্তর্জাতিক সুদের হার ও বন্ডের ফলন বাড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ফলে ডলারভিত্তিক ঋণ বা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন অর্থায়ন নেওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণের খরচ বাড়তে পারে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে ফেডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর মার্কিন ট্রেজারি ফলন বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ফলন বৃদ্ধির পেছনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূলধনী বিনিয়োগ ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথা বলেছেন।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রায় নতুন ঋণ নেওয়া, পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের খরচে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঋণের সুদ বা বাংলাদেশের মোট ঋণব্যয় কতটা বাড়বে, তা ঋণের ধরন, মুদ্রা, সুদের কাঠামো ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।


বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে কিছুটা শক্তিশালী ভিত্তি


অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার; BPM6 পদ্ধতিতে তা ছিল প্রায় ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।


বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপও করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের নিলামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নিলামে ডলারের কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা এবং ওজনযুক্ত গড় হার ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা।


এতে বোঝা যায়, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ওঠানামা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ভবিষ্যতে ডলারের বৈশ্বিক শক্তি কতটা বাড়ে এবং দেশের আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর চাপের মাত্রা নির্ভর করবে।


আমদানি ও মূল্যস্ফীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব


ডলারের দাম বাড়লে একই পরিমাণ আমদানি পণ্য কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়। এর প্রভাব জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্যে পড়তে পারে।


এদিকে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছিল।


ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের সম্ভাব্য চাপ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক পণ্যের দাম এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।


সামনে নজর থাকবে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তে


ফেডের সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়ানো হলেও বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। ফেডের প্রকাশিত পূর্বাভাসে ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জন ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অন্তত আরও একটি সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেছেন।