পেনসিলভানিয়া, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ২৩ মাঘ, ১৪৩২

সর্বশেষ:
৪৬ আসনে বিদ্রোহীদের চাপে বিএনপি ও মিত্ররা জুলাই বিপ্লবীদের ৩৬ দফা অঙ্গীকার ভোটের প্রচারে ফেসবুকে বিএনপির ব্যয় ৩৭ লাখ টাকা, জামায়াতের কত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ওবায়দুল কাদের বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটে জড়িত হাসিনা-নসরুল যে ইশতেহার ঘোষণা করলেন তাসনিম জারা পটুয়াখালী-৪ আসন: বিএনপি-চরমোনাই লড়াইয়ে ফ্যাক্টর আ.লীগের ভোট আসন্ন নির্বাচনে কী ক্ষমতায় আসতে পারে জামায়াতে ইসলামী ইতালি সমর্থন জানালো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই চাটারকে: উপ-প্রতিমন্ত্রী সব আসনেই জয় চায় বিএনপি, চমক দেখাতে প্রস্তুত জামায়াত দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন টিকে থাকা নয় বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, বিচার শুরু দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রার্থিতা বহাল: আইনি জটিলতা ও বিতর্কে নির্বাচন বিপিসির এলপিজি আমদানির অনুমোদন, বাজারে স্বস্তির আশা

যুগে যুগে নজরুলের গানে ঈদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ০৮ এপ্রিল, ২০২৪

কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম আসলেই প্রথম যে শব্দ মাথায় আসে তা হলো ‘বিদ্রোহী’। তবে এই পরিচয় ছাড়াও কবির রয়েছে অনেক পরিচিতি। প্রেমের কবি, সাম্যের কবি ও মুসলিম রেনেসাঁর কবি। তার লিখা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি ছাড়া বাঙালি মুসলিমদের ঈদ যেন অসম্পন্ন থেকে যায়। রমজান মাস শেষে পশ্চিম আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে এই গান প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। 

সময়টা ছিল ১৯৩১ সাল! তখনো রমজানের রোজা শুরু হয়নি। তবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। একদিন বিকেল চারটার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এলেন মোহাম্মদী’র সম্পাদক মওলানা আকরম খাঁর কাছে কোলকাতার অফিসে।


এসেই কবি বললেন, চার আনা পয়সা দেন চাচা দুপুরে খাইনি। পকেটে হাত দিয়ে একটা সিকি বের করে দিয়ে মওলানা আকরম খাঁ বললেন, এই নাও চার আনা পয়সা, বাইরে থেকে খেয়ে এসো। তারপর একটা কবিতা দিয়ে যাবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যার জন্য। খেতে গেলেন না নজরুল। কলম হাতে নিয়ে লিখতে বসে গেলেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে লেখা শেষ করে মওলানা আকরম খাঁর হাতে খাতাটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন ‘কবিতাটি পড়েন চাচা, আমি খেয়ে আসি’। এটাই সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’


লেখার চারদিন পর কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের গলায় গানটি রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পরে ঈদের আগে এই রেকর্ড প্রকাশ হয়। গ্রামফোন কোম্পানি এই রেকর্ড প্রকাশ করে। বাংলা ইসলামি গানের প্রথম রেকর্ড হিসেবে ‘সুপার-ডুপার হিট’।


কাজী নজরুল ইসলামের ঈদের কালজয়ী এই গানটিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব, ইসলামের মমার্থ, ঈদের তাৎপর্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। এই গান ছাড়া যেমন ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় না, তেমনি ইসলামে মানব প্রেমের গুরুত্ব যে অপরিসীম, সে বিষয়টিও দ্যার্থহীনভাবে উচ্চারিত হয়েছে এই গানে। গানের একটি জায়গায় নজরুল পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’ অর্থাৎ ঈদের এই আনন্দক্ষণে শত্রুতা ভুলে প্রেম বিতরণের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বকে ইসলামের মুরিদ বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন কবি।


কবি আজ নেই, তবে রয়ে গেছে তার সৃষ্টকর্ম। এই গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে থাকবেন কবি নজরুল!

মন্তব্যঃ

দুঃখিত, কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি!

নতুন মন্তব্য করুন:

ad
সকল খবর জানতে ক্লিক করুন
ad