Columbus, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির এজিএম অনুষ্ঠিত, গঠিত হলো নতুন কমিটি অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের নীরব মাধ্যম-কতৃপক্ষ নিস্ক্রিয় মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান, ৭টি মামলা পাঠ্যবইয়ের বাহিরে খেলার মাঠে ও থাকছে সমান ভাবে গুরুত্ব; প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করলেন দুর্গাপুরের মুনিরা তাহের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট,প্যান্টপিস ওবিভিন্ন চোরাচালানী মালামালসহ ২ জন আটক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী নাসিরনগরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভিসা প্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা, প্রতারণা এড়াতে মানতে হবে নতুন নিয়ম বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা
হোম › বাংলাদেশ › মোনার্ক প্রজাপতির চার প্রজন্মের অভিবাসন যাত্রা

মোনার্ক প্রজাপতির চার প্রজন্মের অভিবাসন যাত্রা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ১৬ মে, ২০২৪ 346
মোনার্ক প্রজাপতির চার প্রজন্মের অভিবাসন যাত্রা

মোয়াজ্জমা হোসেন

প্রকৃতির বিস্ময় মোনার্ক (বা রাজা) প্রজাপতিদের আশ্চর্য চার প্রজন্মের অভিবাসন যাত্রা | ছেলেবেলায় নজরুলের "প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙ্গীন পাখা টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা" আবৃত্তি করে বড় হয়েছি | এখনকার শিশুদের অঙ্কনের হাতে খড়ি হয় প্রজাপতির লাল নীল আঁকাবাঁকা পাখা দিয়ে | রবীন্দ্রনাথ প্রজাপতির নৃত্যের সাথে গ্রীষ্মের সম্পর্ক গড়েছেন "আলোর মাঝে উঠলো জেগে হাজার প্রজাপতি" | শুধু বাংলাদেশে নয় , আমাদের সেকেন্ড হোম যুক্তরাষ্ট্র/কানাডায় প্রজাপতির ডানায় ঋতু বদলের নানা গল্প রয়েছে। এখানে মোনার্ক প্রজাপতি মরসুমের বার্তাবাহী পতঙ্গ। উত্তর আমেরিকার মানুষ মনে করেন তাদের কমলা-কালো রংবাহারি ডানায় গ্রীষ্ম মুছে দিয়ে মোনার্ক প্রজাপতিরা উড়ে যায় ক্যালিফোর্নিয়া সমুদ্র উপকূল হয়ে মেক্সিকো, কিউবার দিকে। বনে-বাগানে মোনার্ক প্রজাপতি হারিয়ে যেতে শুরু করলেই শীতের বার্তা পেয়ে যান মানুষ। অন্টারিও প্রদেশের রূপকথার গল্পে রয়েছে, ‘অ্যাবসেন্স অফ মোনার্ক শোজ দ্য প্রেসেন্স অফ উইন্টার। ১৯৩৫ সালের আগে কানাডার মানুষ জানতেননা গ্রীষ্মের আনন্দদায়ক প্রজাপতিগুলো শরদে (Fall) কোথায় হারিয়ে যায়, আবার কিভাবেই বা বসন্তে (spring) ফিরে আসে ? 

আলো বা উষ্ণতার খোঁজে কমলা ও কালো রঙ্গিন পাখা বিশিষ্ট খুব সুন্দর ঋতু বদলের মোনার্কদের অভিবাসন শুরু হয় প্রতিবছরের অক্টোবরে উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের) কিছু এলাকা থেকে | সেই আলোর কাফেলার কিছু প্রজাপতির আমাদের ফিলাডেলফিয়া উপর দিয়ে দক্ষিনের স্টেট গুলি পেড়িয়ে মধ্য মেক্সিকোর অরণ্য পর্যন্ত, যেখানে আবহাওয়া উষ্ণ, প্রায় তিন হাজার মাইল চিত্তাকর্ষক ভ্রমণ । আবার গ্রীষ্মকালে মেক্সিকো থেকে উল্টো পথে ফিরে আসে |

মোনার্ক প্রজাপতিরা প্রতি বছর অভিবাসনের সময় সাধারণত আগেরবার যে গাছগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল, সেগুলোতেই আবার ফিরে আসে। এক হিসাবে এটি ভারি অদ্ভুত এক কাণ্ড, কারণ আগের বছরের প্রজাপতিগুলো আর পরের বছরেরগুলো এক নয়। কয়েকটি প্রজন্মের পর আবার একই জায়গায় ওই প্রজাপতিরা ফিরে আসে, এ নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হয়েছে। 

সেই যাই হোক, প্রায় তিন মাস পর তিন হাজারেরও অধিক মাইল পাড়ি দিয়ে অবশেষে তাদের গন্তব্য মেক্সিকোতে পৌঁছে মেক্সিকোর পর্বতমালার পাইন জাতীয় “ওয়ামেল” গাছে এসে আশ্রয় নেয়। তবে একা নয়, উত্তর আমেরিকা থেকে আগত আরও মিলিয়ন মিলিয়ন । 

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বসন্ত ঋতু যখন তার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে তখন নতুন প্রজন্ম কী করে পৃথিবীতে আসবে সে চিন্তায় অস্থির হয়ে যায়। কারণ তাদের জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার সময় চলে আসছে। ডিম পাড়ার জন্য তারা এবার বিপরীত দিকে অর্থাৎ উত্তরের দিকে রওয়ানা দেয়। আমেরিকার টেক্সাসে এসে তারা সদ্য অঙ্কুরিত “মিল্কউইড” গাছে ডিম পারে আর এই “মিল্কউইড” গাছই নতুন প্রজন্মের একমাত্র খাবার। নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখার অনেক আগেই মা প্রজাপতি মারা যায়। 


নতুন পাখার এই সদ্য নতুন প্রথম প্রজন্ম আরও উত্তরের দিকে যেতে থাকে এবং মে মাসে উত্তর আমেরিকার মিনিসোটায় এসে তারাও আরেক নতুন প্রজন্মের জন্ম দেয় ও মা প্রজাপতি মারা যায়। গ্রীষ্মের উত্তাপে আস্তে আস্তে তারা কানাডার দিকে যেতে থাকে এবং পরবর্তী তিন মাসে আরও দুইটি নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখে। প্রতিবছর এরা চার প্রজন্ম পর্যন্ত বংশবিস্তার করে; প্রথম তিনটি প্রজন্ম কোকুন অবস্থার পর থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচলেও চতুর্থ প্রজন্ম ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে; এই প্রজন্মটি উত্তর আমেরিকার গাছে বনে জঙ্গলে উড়ে বেড়ায়; তারা মেক্সিকোর সেই মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাপতিদের চতুর্থ বংশধর যারা আবারও লম্বা ভ্রমণের প্রস্তুতি নেয়, অভিবাসন করে । অভিবাসন চক্রের এ বিষ্ময় চলছে অনাদি অনন্ত কাল থেকে। 

আট থেকে নয় মাসের চতুর্থ প্রজন্মের জীবন চক্র আর তিন হাজার মাইল পাড়ি দেয়া পথে মোনার্ক বহু জীব বৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখছে। বিশাল অঞ্চলের অসংখ্য উদ্ভিদের পরাগায়ন আর খাদ্যশৃঙ্খল তাদের উপর নির্ভরশীল। কাজেই প্রকৃতির এই বিস্ময় মোনার্ক প্রজাপতিদের বাঁচিয়ে রাখতে আর তাদের আশ্চর্য যাত্রা অব্যাহত রাখতে সচেতন হতে হবে আমাদের সবাইকে।