Columbus | ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলো ৬৬ বছর নখ না কেটে বিশ্বরেকর্ড, শ্রীধরের অবিশ্বাস্য কীর্তি হারিকেন লালার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হাওয়াই, বিদ্যুৎহীন ৪২ হাজারের বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে রানি মুখার্জি, পেলেন সম্মানসূচক ডক্টরেট যুদ্ধবিরতি জোরদারে কায়রো যাচ্ছে হামাস, মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ ফেরিডুবি, নিহত ৬৮; এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪৭—ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন অগ্রগতি, ৩ লাখের বেশি মানুষের পরিচয় নিশ্চিত মিয়ানমারের ডারউইন টেস্টে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ‘আওয়ারাপন ২’-এর বাজিমাত, প্রথম দিনেই ২৭ কোটি পার ইমরান হাশমির এআইয়ের দখলে সাইবার হামলা, সপ্তাহের কাজ হচ্ছে কয়েক দিনে: সফোসের সতর্কবার্তা সিনেমাটিক ভিডিওগ্রাফিতে নতুন চমক, ‘রোবট ফোন’ আনল অনার রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকায় পিকআপ উল্টে নিহত তিনজন সূর্যের ঝড় ১২ ঘণ্টা আগেই শনাক্ত করবে AI, নতুন দিগন্তে NASA পাঁচ ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরলেন প্রশাসকেরা
হোম আন্তর্জাতিক ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪৭—ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪৭—ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:২৭ এএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ 3
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪৭—ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান


ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ভূমিকম্পের পর রোববারও ধ্বংসস্তূপ, বিধ্বস্ত ভবন ও ভূমিধসে চাপা পড়া এলাকায় জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।


স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনের প্রভাব ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।


ধ্বংসস্তূপে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান


ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিকা, মাংগারাই, পূর্ব মাংগারাই ও নাজেওকেও রিজেন্সি। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে এবং ভূমিধসে বেশ কিছু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকারীরা ভারী সরঞ্জাম ও হাতের সাহায্যে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।


উদ্ধার সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসে ট্রান্স-ফ্লোরেস মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নাজেওকেও এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সময় লাগছে।


হাজারো মানুষ ঘরছাড়া


ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস এবং আরও প্রায় ৪৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গির্জাসহ অন্তত ১৬৭টি সরকারি ও জনসেবামূলক স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়েছে।


প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। অনেক বাসিন্দা অবশ্য বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। শক্তিশালী পরাঘাতের আশঙ্কায় কেউ কেউ রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্থায়ী তাঁবুতে।


উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, প্রস্তুত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, কম্বল ও ওষুধ বিতরণ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে।


সুনামি সতর্কতা জারি, পরে প্রত্যাহার


ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে। আতঙ্কে অনেক মানুষ উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেন। পরে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিভিন্ন এলাকায় ছোট আকারের ঢেউ রেকর্ড হয়েছে; সবচেয়ে বড় ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় ১ দশমিক ৬১ মিটার ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের পর শত শত পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি পরাঘাতের মাত্রা ৬ দশমিক ১ পর্যন্ত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।


দুর্গম গ্রাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ


ফ্লোরেস দ্বীপের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বেশ কিছু এলাকায় ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দল স্থলপথে পৌঁছাতে পারছে না। কোনো কোনো এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে নৌযান ও আকাশপথ ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


‘রিং অব ফায়ার’-এ আবারও ভয়াবহ দুর্যোগ


ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।


ফ্লোরেস দ্বীপও অতীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। ১৯৯২ সালে একই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিল। ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামিতে ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।


মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা


উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি, সেসব জায়গা নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকলে দ্রুত উদ্ধার করাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।


ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম একযোগে চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরাঘাতের ঝুঁকি উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।


ফলে ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশায় এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা