আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে রানি মুখার্জি, পেলেন সম্মানসূচক ডক্টরেট
ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স (D.Litt.) ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। ১৪ আগস্ট মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (IFFM) ২০২৬-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়।
এই সম্মানের মধ্য দিয়ে রানি মুখার্জি লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট পাওয়া দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানকে একই বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করেছিল।
তিন দশকের অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি
রানি মুখার্জির অভিনয়জীবন প্রায় তিন দশকের। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি নানা ধরনের সামাজিক ও মানবিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত ‘ব্ল্যাক’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘হিচকি’, ‘মারদানি’ সিরিজ এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-এর মতো সিনেমা দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রানি মুখার্জির কাজ শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তাঁর চলচ্চিত্র সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিষয়েও তাঁর সামাজিক সম্পৃক্ততাকে সম্মানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আবেগাপ্লুত রানি
সম্মানসূচক ডিগ্রি গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রানি মুখার্জি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাঁকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। পরে তিনি এই সম্মানকে তাঁর জীবনের অত্যন্ত গর্বের ও বিনম্র মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
রানি বলেন, ছোটবেলায় অন্য অনেক শিশুর মতো তিনিও পরিবার ও দেশের জন্য গর্বের কারণ হতে চেয়েছিলেন। অভিনয় ও চলচ্চিত্রকেই তিনি সেই স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। ক্যারিয়ারে তিনি এমন গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যেগুলো মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং সমাজে প্রয়োজনীয় আলোচনা তৈরি করতে পারে।
নারীর শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব
রানি মুখার্জির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয়। বিশেষ করে ‘মারদানি’ সিরিজে পুলিশ কর্মকর্তা শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্র এবং ‘হিচকি’-তে শিক্ষিকার ভূমিকায় তিনি নারীর সক্ষমতা, সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-তেও একজন মায়ের অধিকার ও সন্তানের জন্য লড়াইয়ের গল্পকে কেন্দ্রীয়ভাবে তুলে ধরা হয়। এসব চরিত্রের মাধ্যমে রানি ভারতীয় সিনেমায় নারীর নানা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করেছেন।
IFFM-এ বিশেষ সম্মাননাও
সম্মানসূচক ডক্টরেটের পাশাপাশি এবারের ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নে রানি মুখার্জিকে অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য একটি বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর কাজের প্রভাবকে বিবেচনায় নিয়ে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মেলবোর্নের এই চলচ্চিত্র উৎসব ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। ২০২৬ সালের উৎসবে ৩০টিরও বেশি ভাষায় ১৩০টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।
বলিউডে আরও একটি মাইলফলক
রানি মুখার্জির এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট পাওয়া শাহরুখ খানের পর দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে রানি এই তালিকায় যুক্ত হলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক নানা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা এবং শক্তিশালী নারী চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও এই সম্মানের পেছনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রায় তিন দশকের পথচলায় অসংখ্য জনপ্রিয় ও প্রশংসিত চরিত্রে অভিনয় করা রানি মুখার্জির জন্য লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্মান তাই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ভারতীয় সিনেমায় তাঁর দীর্ঘ অবদান এবার একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরেও পেল বিশেষ স্বীকৃতি।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা