Columbus | ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
সুস্থ নারী, সুস্থ জীবন: প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের তালিকা ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলো ৬৬ বছর নখ না কেটে বিশ্বরেকর্ড, শ্রীধরের অবিশ্বাস্য কীর্তি হারিকেন লালার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হাওয়াই, বিদ্যুৎহীন ৪২ হাজারের বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে রানি মুখার্জি, পেলেন সম্মানসূচক ডক্টরেট যুদ্ধবিরতি জোরদারে কায়রো যাচ্ছে হামাস, মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ ফেরিডুবি, নিহত ৬৮; এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪৭—ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন অগ্রগতি, ৩ লাখের বেশি মানুষের পরিচয় নিশ্চিত মিয়ানমারের ডারউইন টেস্টে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ‘আওয়ারাপন ২’-এর বাজিমাত, প্রথম দিনেই ২৭ কোটি পার ইমরান হাশমির এআইয়ের দখলে সাইবার হামলা, সপ্তাহের কাজ হচ্ছে কয়েক দিনে: সফোসের সতর্কবার্তা সিনেমাটিক ভিডিওগ্রাফিতে নতুন চমক, ‘রোবট ফোন’ আনল অনার রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকায় পিকআপ উল্টে নিহত তিনজন সূর্যের ঝড় ১২ ঘণ্টা আগেই শনাক্ত করবে AI, নতুন দিগন্তে NASA
হোম আন্তর্জাতিক জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ ফেরিডুবি, নিহত ৬৮; এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান

জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ ফেরিডুবি, নিহত ৬৮; এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৩৫ এএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ 3
জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ ফেরিডুবি, নিহত ৬৮; এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান

জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ভয়াবহ ফেরিডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার আরও ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হলে এই সংখ্যা নিশ্চিত করে দেশটির পুলিশ। দুর্ঘটনার পর এখনো হ্রদজুড়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ১১ আগস্ট প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে কারিবা হ্রদে ফেরিটি উল্টে যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছিল।


ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী


দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৯০ জন। তবে দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিশুদের একটি অংশ টিকিটের আওতায় না থাকায় প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। একটি ক্রু সদস্যের হিসাব অনুযায়ী, ফেরিটিতে মোট যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে সংখ্যা প্রায় ১৫৩ জন পর্যন্ত হতে পারে।


দুর্ঘটনার সময় ফেরিটি কারিবা শহর থেকে হ্রদের প্রত্যন্ত দ্বীপ ও মাছ ধরার এলাকাগুলোর দিকে যাচ্ছিল। এসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নৌপথটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সড়ক যোগাযোগ দুর্বল এবং গণপরিবহনের সুযোগও সীমিত।


উত্তাল ঢেউয়ে মুহূর্তেই বিপর্যয়


প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ফেরিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে যাত্রীরা ফেরিটি ঘুরিয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও কয়েকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরিটি পানিতে উল্টে যায়।


দুর্ঘটনার পর অনেকে উল্টে যাওয়া ফেরির গায়ে উঠে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী নৌযান ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য বিশেষায়িত দলও মোতায়েন করা হয়েছে।


১৮ শিশুও রয়েছে নিহতদের তালিকায়


এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন শিশু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের স্বজনের মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষায় রয়েছে।


দুর্ঘটনার পর কারিবা এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অনেকেই নিখোঁজদের খবরের অপেক্ষায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন। নিহতদের স্মরণে স্থানীয়ভাবে শোকসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।


এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান


মৃতের সংখ্যা ৬৮-তে পৌঁছালেও উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। হ্রদের বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দল নৌযান ও বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হয়নি। কারণ ফেরিতে শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।


এর আগে উদ্ধারকারী দল ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছিল। এখন নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা


দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া ঘটনাটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ঘাটতি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


দুর্ঘটনার পর ফেরিটির বয়স, ধারণক্ষমতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বৈরী আবহাওয়াকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।


জিম্বাবুয়ের নৌদুর্ঘটনার ইতিহাসে ভয়াবহতম ঘটনা


কারিবা হ্রদে এর আগেও নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের দুর্ঘটনাটি জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ফেরিডুবির ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর দেশটিতে নৌযাত্রার নিরাপত্তা, পুরোনো নৌযানের ব্যবহার এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


কারিবা হ্রদ জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি বিশ্বের আয়তনে অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার জন্য এই হ্রদ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় নৌযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, সেটিই এখন বড় উদ্বেগ। উদ্ধারকারীরা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজদের স্বজনেরা এখনো আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছেন—ধ্বংসাত্মক এই দুর্ঘটনার পর হয়তো কোনো স্বজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা